বিখ্যাত : তথ্য। তারিখ। মাস। বছর। বিষয়। ব্যক্তি খুঁজুন :

পৃথিবীর মানচিত্রের পরিবর্তন : কীভাবে এবং কেন?

পৃথিবীর মানচিত্রের পরিবর্তন : কীভাবে এবং কেন করা হয়েছে?

পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব সংক্রান্ত তুলনামূলক ব্যানার চিত্র, যেখানে মেরকেটর প্রজেকশন এবং ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনের মানচিত্র দেখানো হয়েছে। A comparative banner illustration showing the shift from the Mercator map projection to the Equal Earth map projection, highlighting global map changes.

জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ব মানচিত্রের ঐতিহাসিক পরিবর্তন, কারণ ও তার প্রভাব।


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UN) এবং ইউনেস্কো (UNESCO) প্রচলিত মেরকেটর প্রজেকশন (Mercator Projection) মানচিত্রের আয়তনজনিত বিকৃতি দূর করতে এবং মহাদেশগুলোর সঠিক ভৌগোলিক অনুপাত প্রতিফলনের জন্য সমান-আয়তন প্রজেকশন (যেমন গ্যাল-পিটার্স প্রজেকশন) ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৬ শতকের পুরনো ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রের পরিবর্তে মহাদেশগুলোর সঠিক আয়তন প্রদর্শনকারী ‘ইকুয়াল আর্থ’ (Equal Earth) প্রজেকশন ব্যবহারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

মানচিত্র পরিবর্তনের মূল কারণসমূহ:

১) আয়তনের বিকৃতি রোধ: 

১৫৬৯ সালে নাবিকদের দিকনির্ণয়ের সুবিধার্থে তৈরি মেরকেটর মানচিত্রে বিষুবরেখা থেকে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোকে (যেমন গ্রিনল্যান্ড, ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকা) তাদের প্রকৃত আকারের চেয়ে অনেক বড় দেখায়।

২) প্রকৃত ভৌগোলিক অনুপাত: 

আফ্রিকা মহাদেশ প্রকৃতপক্ষে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়, কিন্তু প্রচলিত মানচিত্রে দুটোকে প্রায় সমান আকারের মনে হয়।

৩) ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও সচেতনতা: 

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক নথিপত্রে প্রতিটি দেশ ও মহাদেশের আয়তনের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই জাতিসংঘ সমান-আয়তন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

মেরকেটর প্রজেকশন ও গ্যাল-পিটার্স প্রজেকশন তুলনা :

মেরকেটর প্রজেকশন দিক ও আকৃতি সঠিক রাখে কিন্তু আয়তন বিকৃত করে, আর গ্যাল-পিটার্স প্রজেকশন সঠিক আয়তন প্রদর্শন করে কিন্তু আকৃতি বিকৃত করে।👉
বৈশিষ্ট্য মেরকেটর প্রজেকশন (Mercator) গ্যাল-পিটার্স প্রজেকশন (Gall-Peters)
প্রজেকশনের ধরণ কনফরমাল (Conformal - আকৃতি ও কোণ ঠিক রাখে) ইকুয়াল-এরিয়া (Equal-Area - প্রকৃত ক্ষেত্রফল ঠিক রাখে) 
 আকৃতি (Shape)  বিষুবরেখা থেকে দূরবর্তী অঞ্চল (যেমন গ্রিনল্যান্ড) বহু গুণ বড় দেখায়। ট্রপিক্যাল অঞ্চলের ভূখণ্ড লম্বাটে ও বিকৃত দেখায়।
আয়তন (Area) বিষুবরেখা থেকে দূরবর্তী অঞ্চল (যেমন গ্রিনল্যান্ড) বহু গুণ বড় দেখায়। প্রতিটি দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের অনুপাত সঠিক থাকে।
 প্রধান ব্যবহার  সামুদ্রিক ও আকাশপথের দিকনির্ণয় (Navigation)। ভৌগোলিক ন্যায্যতা, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সচেতনতা।
 তৈরি ও উদ্ভব  ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মেরকেটর দ্বারা তৈরি। ১৮৫৫ সালে জেমস গ্যাল ও ১৯৭৩ সালে আর্নো পিটার্স দ্বারা প্রচারিত।

সংক্ষেপে, দিক ও নেভিগেশনের জন্য মেরকেটর এবং বিশ্বের সঠিক ভূখণ্ডের অনুপাত বুঝতে গ্যাল-পিটার্স ব্যবহার করা হয়।

সুপারিশকারীদের পরিচয়

কারা করেছিলেন: 

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো (Togo) আফ্রিকান ইউনিয়নের (AU) ৫০টিরও বেশি দেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব পেশ করে।

পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি : 

১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটরের তৈরি করা মানচিত্র এতদিন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে সমুদ্রপথের দিকনির্ণয় সহজ হলেও নিরক্ষরেখা থেকে দূরের অঞ্চলগুলোকে অনেক বড় এবং নিরক্ষরেখার কাছের মহাদেশগুলোকে (বিশেষ করে আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকা) তাদের মূল আকারের চেয়ে অনেক ছোট দেখানো হতো। উদাহরণস্বরূপ, মার্কেটর ম্যাপে আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডকে দেখতে প্রায় সমান মনে হলেও আফ্রিকা বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। আফ্রিকার দেশগুলোর মতে, এটি একটি ‘কার্টোগ্রাফিক উপনিবেশবাদ’, যা আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের ভূরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে মানসিকভাবে খাটো করে আসছিল।

প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কারণ :

বৈজ্ঞানিক সত্যতা ও ভৌগোলিক ন্যায্যতা: বিজ্ঞানভিত্তিক নিরপেক্ষ বিশ্বমানচিত্রের মাধ্যমে প্রতিটি দেশের প্রকৃত ভৌগোলিক আয়তন সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সঠিক তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে সম্মতি দেয়।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সাধারণ পরিষদের সভায় ভোটাভুটিতে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

বিরোধিতা করেছিল?

জাতিসংঘের এই ভোটে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল একমাত্র দেশ যা প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

মার্কিন যুক্তি: মার্কিন প্রতিনিধিদলের মতে, ১৬ শতকের একটি ঐতিহাসিক নেভিগেশনাল মানচিত্র নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক না করে জাতিসংঘের উচিত বর্তমান বিশ্বের অন্যান্য বাস্তবিক ও জরুরি সংকটগুলোর দিকে নজর দেওয়া। এছাড়া বিশ্বব্যাপী প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক, ডিজিটালি জিপিএস এবং প্রশাসনিক মানচিত্র রাতারাতি পরিবর্তন করা বিশাল আর্থিক ও লজিস্টিক ব্যয়ের বিষয়। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সামুদ্রিক ও বিমান চলাচলের জন্য মার্কেটর প্রজেকশন এখনও বেশি উপযোগী।

কারা পক্ষে ছিল এবং কারা বিরত ছিল?

কারা পক্ষে :

পক্ষে: আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, ফ্রান্সসহ এশিয়া, ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়।

কারা বিপক্ষে :

ভোটদানে বিরত (Abstained): মোট ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য দেশ হলো ইউক্রেন। নতুন ইকুয়াল আর্থ মানচিত্রে রাশিয়ার দখলে থাকা ‘ক্রিমিয়া’ অঞ্চলকে মূল ইউক্রেন থেকে আলাদা ও ভিন্ন রঙে দেখানোর প্রতিবাদে ইউক্রেন এতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

উল্লেখ্য, ভারত ও জাপান নতুন এই প্রজেকশনের পক্ষে ভোট দিলেও মানচিত্রে ভারত-চীন সীমানা/কাশ্মীর এবং রাশিয়ার সাথে বিরোধপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের সীমান্ত উপস্থাপনা নিয়ে তাদের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
-------××-------

মন্তব্যসমূহ

🔰 তারিখ অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 মাস অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

🔰 বছর অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 ব্যক্তি অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 বিষয় অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন :🔍

আরও দেখান

🔰 তথ্য তালাশ : জনপ্রিয় ব্যক্তি ও বিষয়গুলো দেখুন:

উসেইন বোল্ট, ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড

বিশ্ব অ্যালজেইমার্স দিবস

মহান মে দিবসের ইতিহাস ও ২০২৬-এর তাৎপর্য | তথ্য তালাশ

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মদিন

শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ পাড়ি

প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ভারতের জাতীয় প্রতীকের নকশাকার

চিন্তা ও চেতনার পার্থক্য কী?

উদ্ভাবন-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কী

‘রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার’ কী?

তথ্য তালাশ : অনলাইন সংকলন

আলী হোসেন, লেখক,
তথ্য তালাশ
সুপ্রিয় পাঠক,

তথ্য তালাশ-এর অনলাইন সংকলনে আপনাকে স্বাগত। 

প্রতিদিন, প্রতি নিয়ত বিশ্বজুড়ে ঘটে চলেছে নানান ঘটনা। কিছু বিখ্যাত, কিছু অখ্যাত, আবার কিছু কুখ্যাতও। এই সব হরেক ঘটনার মধ্যে থাকে এমন কিছু ঘটনা, যা মানুষ মনে রাখতে চায়, চায় স্মরণ করতে।

তথ্য তালাশ সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি। যেহেতু এটি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি, তাই যখনই প্রয়োজন পড়বে, আপনার হাতের মোবাইলে হাত রাখলেই আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মত সামনে হাজির হবে তথ্য তালাশ।

আপনি কি পড়তে চান এই সংকলনটি! ক্লিক করুন এখানে।