ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের জন্মদিন
ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের জন্মদিন :
Bharatendu Harishchandra's birthday
১৮৫০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের জন্মদিন।
তিনি ছিলেন আধুনিক হিন্দি সাহিত্যের জনক এবং একজন প্রভাবশালী লেখক, কবি, নাট্যকার ও সাংবাদিক। ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় নবজাগরণের সময় তিনি হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। তাঁর হাত ধরেই হিন্দি গদ্যের বিকাশ ঘটে এবং হিন্দি সাহিত্য আধুনিকতার পথে পা বাড়ায়।জীবন ও কর্ম
ভারতেন্দু হরিশচন্দ্র ১৮৫০ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর বারাণসীতে এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা গোপালচন্দ্র ছিলেন একজন কবি। অল্প বয়সেই তিনি হিন্দি, সংস্কৃত, উর্দু, এবং ফারসি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি 'কবিকচন সুধা' (Kavivachansudha) নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন, যা ছিল আধুনিক হিন্দি সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এরপর তিনি আরও দুটি পত্রিকা প্রকাশ করেন—'হরিশচন্দ্র ম্যাগাজিন' (Harishchandra Magazine) এবং 'বালাবোধিনী' (Balabodhini)। 'বালাবোধিনী' বিশেষভাবে নারীদের শিক্ষার প্রসারের জন্য প্রকাশিত হয়েছিল।সাহিত্যিক অবদান
ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের সাহিত্যকর্মকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:* নাটক:
তিনি প্রায় ১৭টিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তাঁর নাটকগুলিতে একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সমাজ সংস্কার এবং জাতীয়তাবাদের বার্তা থাকত, তেমনি অন্যদিকে ছিল পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে 'ভারত দুर्दশা' (Bharat Durdasha), যেখানে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতের করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী নাটক। এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলো হলো 'অন্ধের নগরী' (Andher Nagri) এবং 'চন্দ্রাবলী' (Chandrawali)।
* কবিতা:
* কবিতা:
তিনি ব্রজভাষা ও খড়িবোলি উভয় ভাষাতেই কবিতা লিখেছেন। তাঁর কবিতায় ভক্তি, প্রেম, প্রকৃতি, এবং দেশপ্রেমের মতো নানা বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ব্রজভাষাকে এক নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করে তাকে আরও শক্তিশালী করেন।
* প্রবন্ধ:
* প্রবন্ধ:
প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি, এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের গভীর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেন। তাঁর প্রবন্ধগুলো হিন্দি গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতেন্দু মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ১৮৮৫ সালে মারা যান, কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হিন্দি সাহিত্যকে এমন এক মজবুত ভিত্তি দেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তী সাহিত্যিকরা কাজ করেছেন। তাঁকে 'আধুনিক হিন্দি সাহিত্যের জনক' বলা হয় এবং তাঁর নামে অনেক সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁর অবদানের জন্য তাঁর সময়কালকে 'ভারতেন্দু যুগ' (Bharatendu Yug) নামেও অভিহিত করা হয়।
--------xx-------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন