মোনালিসা ছবি চুরি হয়
মোনালিসা ছবি চুরি হয় :
The day the Mona Lisa was stolen
১৯১১ সালের ২১ আগস্ট। পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত ছবি মোনালিসা চুরি হয়ে যায়। ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে ছবিটি চুরি করেন মিউজিয়ামেরই একজন কর্মী। দু'বছর পর ১৯১৩ সালে ছবিটি উদ্ধার হয় এবং পুনরায় মিউজিয়ামে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
মোনালিসা (Mona Lisa) :
মোনালিসা হল পৃথিবী বিখ্যাত তৈলচিত্র। এই চিত্রটি ‘লা জিওকোন্দা’ (La Gioconda) নামেও পরিচিত। ইতালীয় রেনেসাঁসের মহান শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই চিত্রটি আঁকেন। এটি বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিসের ‘ল্যুভর জাদুঘরে’ প্রদর্শিত হয় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত, অধ্যয়নকৃত, এবং সমাদৃত শিল্পকর্মগুলির মধ্যে একটি।ইতিহাসের সময়রেখা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ:
[১] সৃষ্টিলগ্ন (১৫০৩-১৫০৬, সম্ভবত ১৫১৭ পর্যন্ত) :
ক) চিত্রশিল্পী:
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।
খ) আদেশদাতা:
ধারণা করা হয়, ফ্লোরেন্সের একজন সফল রেশম ব্যবসায়ী ‘ফ্রান্সেসকো দেল জিওকোন্দো’ তাঁর স্ত্রী লিসা ঘেরার্দিনি-র একটি প্রতিকৃতি আঁকার জন্য লিওনার্দোকে নিযুক্ত করেছিলেন। এ থেকেই ইতালীয় নাম ‘লা জিওকোন্দা’ (আনন্দময়ী/সদা হাস্যময়ী নারী) এবং ইংরেজি নাম ‘মোনা লিসা’ (মোনা একটি শিষ্টাচারপূর্ণ সম্মোধন, অর্থাৎ ম্যাডাম লিসা) এসেছে।
গ) শৈল্পিক কৌশল:
লিওনার্দো এতে তাঁর স্বকীয় ‘স্ফুমাতো’ (Sfumato) কৌশল ব্যবহার করেছেন, যেখানে অতি সূক্ষ্ম ও নরম ব্রাশস্ট্রোকের মাধ্যমে রং ও রেখাকে এমনভাবে মিলিয়ে দেওয়া হয় যে, কোনো স্পষ্ট সীমানা থাকে না। এর ফলেই মোনালিসার হালকা, রহস্যময় হাসিটি তৈরি হয়েছে, যা দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিবর্তন হয়।
ঘ) পটভূমি:
চিত্রের পেছনের অনন্য ও স্বপ্নালু প্রাকৃতিক দৃশ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা লিওনার্দোর প্রাকৃতিক দর্শন এবং ভূগোল সম্পর্কে আগ্রহের প্রতিফলন।
✅ চিত্রটি প্রায় দুই বছর ধরা পড়েনি। পেরুগিয়া ১৯১৩ সালে ইতালিতে এটি বিক্রি করার চেষ্টা করলে ধরা পড়েন এবং চিত্রটি ফেরত আসে।
✅ এই চুরির ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং মোনালিসাকে রাতারাতি একটি Household Name-এ পরিণত করে।
[২] ফ্রান্সে স্থানান্তর (১৫১৬-১৫১৭)
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তাঁর শেষ বছরগুলো ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রাঁসোয়া-র আমন্ত্রণে ফ্রান্সে কাটান। ধারণা করা হয়, তিনি চিত্রটি নিজের সাথে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে এটি রাজাকে বিক্রি করেন (বা রাজাই এটি অধিগ্রহণ করেন)।[৩] ফরাসি রাজকীয় সংগ্রহ ও ল্যুভর জাদুঘর
চিত্রটি ফ্রান্সের রাজকীয় সংগ্রহশালার অংশ হয়ে ওঠে এবং Eventually ফরাসি বিপ্লবের পর ১৭৯৭ সালে তা ‘ল্যুভর জাদুঘরে’ স্থান পায়।[৪] চুরি ও বিশ্বব্যাপী খ্যাতি (১৯১১)
✅ মোনালিসার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে। ১৯১১ সালের ২১ আগস্ট, ল্যুভর জাদুঘরের একজন ইতালীয় কর্মী ভিঞ্চেন পেরুগিয়া চিত্রটি চুরি করে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল চিত্রটি ইতালিতে ফিরিয়ে নেওয়া।✅ চিত্রটি প্রায় দুই বছর ধরা পড়েনি। পেরুগিয়া ১৯১৩ সালে ইতালিতে এটি বিক্রি করার চেষ্টা করলে ধরা পড়েন এবং চিত্রটি ফেরত আসে।
✅ এই চুরির ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং মোনালিসাকে রাতারাতি একটি Household Name-এ পরিণত করে।
[৫] বিশ্ব ভ্রমণ ও ভ্যান্ডালিজম :
- 👉 ১৯৬২ সালে চিত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করে এবং ১৯৭৪ সালে জাপান ও রাশিয়ায়, যেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ এটি দেখতে আসে।
- 👉 এরপর থেকে নিরাপত্তার কারণে এটি খুব কমই ল্যুভরের বাইরে নেওয়া হয়েছে।
- 👉 মোনালিসা ভ্যান্ডালিজমের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে (১৯৫৬ সালে পাথর নিক্ষেপ, ১৯৭৪ সালে স্প্রে করা, ২০০৯ সালে একটি মগ নিক্ষেপ, ২০২২ সালে কেক নিক্ষেপ ইত্যাদি)। এজন্যই এটি এখন bulletproof গ্লাসের একটি শক্তিশালী কেসের পিছনে রাখা হয়েছে।
মোনালিসা রহস্যময় কেন :
১) রহস্যময়ী হাসি (The Enigmatic Smile):
তার হাসির অর্থ নিয়ে শতাব্দী ধরে বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। এটি কি সুখ, দুঃখ, লজ্জা, না ঔদ্ধত্যের প্রকাশ? লিওনার্দোর স্ফুমাতো কৌশলের কারণে এই হাসি খুবই সূক্ষ্ম এবং দর্শকভেদে ভিন্ন মনে হয়।
২) চোখের দৃষ্টি:
মোনালিসা যেখান থেকে দেখে না কেন, মনে হয় সে সরাসরি দর্শকের দিকে তাকিয়ে আছে এবং তার দৃষ্টি অনুসরণ করে।
৩) অনুপস্থিত ভ্রু ও রোম:
রেনেসাঁস ফ্যাশন অনুযায়ী মহিলারা তাদের ভ্রু উপড়ে ফেলতেন, যা তাদের কপালকে বড় (?) দেখাত। এছাড়াও, উচ্চ রেজোলিউশন স্ক্যানে দেখা গেছে যে মূলত তার সূক্ষ্ম ভ্রু ও চোখের পাতায় রোম ছিল, যা সময়ের সাথে সাথে মিলিয়ে গেছে বা রেস্টোরেশনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪) পটভূমির অসামঞ্জস্য:
চিত্রের বাম দিক ও ডান দিকের Horizons একে অপরের সাথে মেলে না, যা একটি surreally বা স্বপ্নিল অনুভূতি সৃষ্টি করে।
বর্তমান অবস্থান ও গুরুত্ব:
মোনালিসা বর্তমানে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরের ‘দ্য স্যালে দে’ État (State Room)-এ একটি বিশেষ, জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত, বুলেটপ্রুফ কেসের পিছনে রাখা আছে। এটি জাদুঘরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ; শুধুমাত্র এই একটি পেইন্টিং দেখতেই আসেন।সারাংশ:
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির শৈল্পিক mastery, এর রহস্যময় আবহ, চুরির sensation, এবং repeated attacks-এর ইতিহাস মিলে মোনালিসাকে শুধু একটি চিত্রকর্ম নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। এটি শিল্প, ইতিহাস এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির একটি অনন্য প্রতীক।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন