বদরুদ্দিন ওমর-এর প্রয়াণ দিবস
বদরুদ্দিন ওমর-এর প্রয়াণ দিবস :
Death anniversary of Badruddin Umar
আজ ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। বদরুদ্দীন ওমর-এর প্রয়াণ দিবস। আজ সকালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। তিনি বাংলাদেশের মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, অধ্যাপক, লেখক, ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী লেলিনবাদী) নেতা ছিলেন।জন্ম ও বংশ পরিচয় :
১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বদরুদ্দীন উমরদের পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোর্ট থানার কাসেমনগর গ্রাম। এই গ্রামের পূর্ব নাম কাশিয়াড়া।এই পরিবারের আসল ওরিজিন হল তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুল। এই ইস্তাম্বুলের পূর্ব নাম কন্সান্টিনোপাল। কালক্রমে তারা ভারতের বর্ধমানে আসেন। তারপর মঙ্গলকোর্ট থানার কাসেমনগর(কাশিয়াড়া) গ্রামে বসবাস শুরু করেন।
তাঁর পিতার নাম আবুল হাশিম ও মাতার নাম মাহমুদা আখতার মেহেরবানু বেগম। যদিও তার পিতা আবুল হাশিম—একজন সাম্যবাদী—পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধী ছিলেন, তথাপি তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
বদরুদ্দীন উমরের দাদুর নাম মৌলানা আবুল কাসেম যিনি ছিলেন রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির অনুসারী। উমরের বড়বাবা নবাব আব্দুল জব্বার ছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহপাঠি । ভালো ইংরেজি জানতেন বলেই তাঁকে ১৮৫৮ সালেই আণ্ডার-গ্রাজ্যুয়েটেই ভূপালের ম্যাজিস্ট্রেট হন। পরে ভূপালের নবাবও. হন।
এই পরিবারের আরেক সন্তান মহবুব জাহেদী ছিলেন অবিভক্ত বর্ধমান জেলার জেলাপরিষদের সভাধিপতি ১৯৭৮-১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। তারপর ১৯৯৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বর্ধমানের কাটোয়া লোকসভার সাংসদ। ঐ পরিবারের আরেক সদস্য সৈয়দ শাহেদুল্লাহ ছিলেন অবিভক্ত বর্ধমানের অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জেলা সম্পাদক। পরে পার্টি ভাগ হলে সিপিআই(এম)-এ যোগ দেন। তিনি নন্দন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ ছিলেন বামসরকারের প্রতিষ্ঠাতা স্পিকার ও বিখ্যাত ট্রেড ইউনিয়ন নেতা।
শিক্ষাজীবন :
১৯৪৮ সালে বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫০ সালে বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৫৫ সালে দর্শন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন :
প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বদরুদ্দীন উমর ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয় তাঁরই হাত ধরে এবং ১৯৬৮ সালে পদত্যাগ করেন।রাজনৈতিক জীবন :
তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে 'সংস্কৃতি' নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন। তিনি ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তাকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ১৯৭৬ সালের মাঝামঝি অনুষ্ঠেয় বিশেষ কংগ্রেসের প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।লেখক ও ইতিহাসবিদ :
প্রকাশিত গ্রন্থ—প্রবন্ধ-গবেষণা
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১ম খণ্ড ১৯৭০, ২য় খণ্ড ১৯৭৬ ও ৩য় খণ্ড ১৯৮১)
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক (১৯৭২)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৩)
- বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা (১৯৭৪)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬)
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)
- বাঙলাদেশে মার্কসবাদ (১৯৮১)
- আমাদের ভাষার লড়াই, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ (১৯৮১)
- বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতির চালচিত্র (১৯৮২)
- ভারতীয় জাতীয় আন্দোলন (১৯৮৪)
- মার্কসীয় দর্শন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮৬)
- বাঙলাদেশের কৃষক ও কৃষক আন্দোলন (১৯৮৬)
- বাঙলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কয়েকটি দিক (১৯৮৭)
- বাঙলাদেশে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ধারা (১৯৮৭)
- বাঙলাদেশে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার (১৯৮৯)
- বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯)
- সামরিক শাসন ও বাঙলাদেশের রাজনীতি (১৯৮৯)
- পশ্চাৎপদ দেশে গণতন্ত্রের সমস্যা (১৯৯০)
- বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লব (১৯৯০)
- বামপন্থী মহলে অনৈক্য ও গণতান্ত্রিক ঐক্য প্রসঙ্গে (১৯৯১)
- নববই-এর নাগরিক বুর্জোয়া অভ্যুত্থান ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৯২)
- প্রতিবিপ্লব ও সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ (১৯৯২)
- গণআদালত-একাত্তরের অসমাপ্ত মুক্তি সংগ্রামের জের (১৯৯২)
- নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রবন্ধ (১৯৯৩)
- ধর্ম, রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা (কলকাতা, ১৯৯৩)
- ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে (১৯৯৪)
- মুক্তি কোন পথে? (১৯৯৪)
- বাঙলাদেশে গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র (১৯৯৪)
- বাঙলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (১৯৯৪)
- বাঙলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য (১৯৯৪)
- সাম্রাজ্যবাদের নতুন বিশ্বব্যবস্থা (১৯৯৫)
- জনগণের হাতে ক্ষমতা-নির্বাচন না অভ্যুত্থান? (১৯৯৬)
- আমাদের সময়কার জীবন (১৯৯৬)
- নির্বাচিত বক্ততা (১৯৯৬)
- বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতির দুইরূপ (১৯৯৭)
- বাঙলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি (১৯৯৭)
- বিবিধ প্রসঙ্গ (১৯৯৮)
- সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্ব পরিস্থিতি (১৯৯৮)
- দ্বিতীয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাঙলাদেশ (১৯৯৯)
- বাঙলাদেশের বামপন্থীরা; একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক ভুমিকা (২০০০)
- নির্বাচিত প্রবন্ধ (২০০০)
- একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের পথে (২০০০)
- সাক্ষাৎকার (২০০১)
- বাঙলাদেশে ফ্যাসীবাদ (২০০১)
- শিক্ষা ও শিক্ষা আন্দোলন (২০০১)
- জনগণের সংগ্রামের পথ (২০০২)
- বাঙলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র (২০০৩)
- সংসদীয় রাজনীতি, জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০৩)
- আমার জীবন (২০০৪)
- প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৪)
- আমার পিতা (২০০৫)
- বাঙলাদেশে ইতিহাস চর্চা (২০০৬)
- শতাব্দীর শুরুতে বাঙলাদেশের চিত্র (২০০৬)
- মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের জয়-পরাজয় (২০০৬)
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬)
- বাঙলাদেশের অভ্যুদয় (১ম খন্ড ২০০৬)
- কার দিন বদল হলো (২০১০)
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থ ও সম্পাদনা
- Politics and Society in East Pakistan and Bangladesh [পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ] (১৯৭৩)
- Society and Politics in Pakistan [পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতি] (কলকাতা, ১৯৮০)
- Politics and Society in Bangladesh [বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ] (১৯৮৭)
- Towards the Emergency in Bangladesh [বাংলাদেশে জরুরি অবস্থার দিকে] (১৯৮০)
- Imperialism and General Crisis of the Bourgeoise in Bangladesh [বাংলাদেশে বুর্জোয়াদের সাম্রাজ্যবাদ ও সাধারণ সংকট] (১৯৮৬)
- Language Movement in East Bengal [পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন] (২০০১)
- Emergence of Bangladesh: Class Struggles in East Pakistan (1947-1958) [বাংলাদেশের উত্থান], অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, পাকিস্তান (২০০৪)। উল্লেখ্য, এটির প্রথম মুদ্রণ দ্রুতই নিঃশেষিত হলে দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, নয়া দিল্লি (২০১৭); বাঙ্গালা গবেষণা (২০২০)।
- Emergence of Bangladesh: Rise of Bengali Nationalism (1958-1971), অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, পাকিস্তান (২০০৬)[৪]।
অন্যান্য গ্রন্থ :
- বাঙ্গালা গবেষণা (২০২০)।
- সুকান্ত সমগ্র (১৯৭০)
- ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গ : কতিপয় দলিল (১ম খন্ড ১৯৮৪ এবং ২য় খন্ড ১৯৮৫)
- স্ট্যালিন প্রসঙ্গ (১৯৯০)
- পার্বত্য চট্টগ্রাম : নিপীড়ন ও সংগ্রাম (১৯৯৭),
- নারী প্রশ্ন প্রসঙ্গে (২০০৩)
পুরস্কার ও সম্মাননা :
১৯৭২ সালে বদরুদ্দীন উমর বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন, তবে তিনি তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার পান এবং প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার "স্বাধীনতা পদক"-এ বদরুদ্দীন উমরকে ভূষিত করে। কিন্তু বদরুদ্দীন উমর তা প্রত্যাখান করেন। এ নিয়ে তিনি বলেন-
“১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি এটা জানিয়ে দিচ্ছি।”
বদরুদ্দীন ওমর-এর ধর্মচিন্তা :
২০২১ সালে বাংলাদেশের 'দেশ টিভি'তে আসাদুজ্জামান নুর উপস্থাপিত একটি সাক্ষাৎকার দেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আল্লাহর উপর তিনি আস্থা হারিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন—“মানুষের এত যে দুঃখ দুর্দশা... এই যে বলা হচ্ছে আল্লাহরা হাতের ইশারা ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না ইত্যাদি। তা এখন আল্লাহর গুণ হিসেবে যা বলা হয় তিনি অত্যন্ত দয়ালু, সবজান্তা, সর্বক্ষমতাময়... এইরকম গুণসম্পন্ন অস্তিত্ব দিয়ে দুনিয়ার বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যায় না। মানুষ যে এত দুঃখ দুর্দশার মধ্যে আছে... অনেকে বলেন আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহর এই পরীক্ষা করার তো কোন দরকার ছিল না! তিনি মজা করার জন্য মানুষকে এই দুর্দশার মাঝে ফেলছেন? এটার কি কারণ? একজন মা হাসপাতালে ঢুকেছেন বাচ্চাকে বাইরে রেখে, এসে দেখলেন বাচ্চা মারা গিয়েছে। এখানে বাচ্চাটাকে মেরে কী পরীক্ষা করলেন, কী খেলা করলেন? ... পরীক্ষা যত হচ্ছে গরীবের উপর দিয়েই হচ্ছে। আমি ওখানে বলেছি আল্লাহ বড়লোকদের যা দেয়ার তা ইহলোকেই দেন, আর গরীবদের যা দেয়ার তা বাকির খাতায় রেখে দেন...”
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত বদরুদ্দীন উমর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রয়াত হলেন।
----------
বাংলাদেশের শুধু নয়, উপমহাদেশের বিখ্যাত লেখক , গবেষক ,প্রাবন্ধিক ও বামপন্হী বুদ্ধিজীবী ও কমিউনিস্ট বদরুদ্দীন উমরের(৯৪)জীবনাবসান হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে ঢাকার এক হাসপাতালে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক দুই বাংলাতেই নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্হ প্রণেতা। অবিভক্ত বাংলার বিখ্যাত মুসলীম লীগ নেতা স্বাধীন বঙ্গদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা আবুল হাসিমের ছেলে। তার এই মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান হল।
বদরুদ্দীন উমরদের পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোর্ট থানার কাসেমনগর গ্রাম। এই গ্রামের পূর্ব নাম কাশিয়াড়া।
বদরুদ্দীন উমরের দাদুর নাম মৌলানা আবুল কাসেম যিনি ছিলেন রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির অনুসারী। উমরের বড়বাবা নবাব আব্দুল জব্বার ছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহপাঠি । ভালো ইংরেজি জানতেন বলেই তাকে ১৮৫৮ সালেই আণ্ডার-গ্রাজ্যুয়েটেই ভূপালের ম্যাজিস্ট্রেট হন। পরে ভূপালের নবাবও. হন।
এই পরিবারের আসল ওরিজিন হল তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুল। এই ইস্তাম্বুলের পূর্ব নাম কন্সান্টিনোপাল। কালক্রমে তারা ভারতের বর্ধমানে আসেন। তারপর মঙ্গলকোর্ট থানার কাসেমনগর(কাশিয়াড়া) গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এই পরিবারের আরেক সন্তান মহবুব জাহেদী ছিলেন অবিভক্ত বর্ধমান জেলার জেলাপরিষদের সভাধিপতি ১৯৭৮-১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। তারপর ১৯৯৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বর্ধমানের কাটোয়া লোকসভার সাংসদ। ঐ পরিবারের আরেক সদস্য সৈয়দ শাহেদুল্লাহ ছিলেন অবিভক্ত বর্ধমানের অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জেলা সম্পাদক। পরে পার্টি ভাগ হলে সিপিআই(এম)-এ যোগ দেন। তিনি নন্দন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ ছিলেন বামসরকারের প্রতিষ্ঠাতা স্পিকার ও বিখ্যাত ট্রেড ইউনিয়ন নেতা।
বদরুদ্দীন উমরের লাশ ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শায়িত থাকবে। সেখানে তাকে সিপিবি থেকে শুরু করে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশ কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন। কোনো পুরস্কারের কাছে তিনি আপস করেননি। মেরুদণ্ডটা ছিল খুব সোজা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন