কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিকম্প
কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিকম্প :
Earthquake hits Kashmir
২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর। কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৬০ রিখটার। সকাল আটটা পঞ্চাশ মিনিটে এই ভয়াবহ ভূমিকম্প হয় মূলত পাকিস্তান অকুপাইড কাশ্মীর অঞ্চলে (পিওকে)। এই ভূমিকম্পে মারা যান ৮৬০০০-এর বেশি মানুষ। এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ আহত হন।২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংঘটিত ভূমিকম্পটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম ধ্বংসাত্মক ও মরণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
কাশ্মীরে ভূমিকম্পের বিবরণ
তারিখ ও সময় : ৮ অক্টোবর ২০০৫, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিট।উৎপত্তিস্থল (Epicenter) : পাকিস্তানের মুজাফফারাবাদ শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
মাত্রা : ৭.৬ (মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল)। এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যা একটি অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাবকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল ।
স্থায়িত্ব : প্রায় ৬০ সেকেন্ড
প্রভাবিত অঞ্চল : পাকিস্তান, ভারত (বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর), আফগানিস্তান।
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি
এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মাত্রা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।· মানুষিক ক্ষয়ক্ষতি:
ভূমিকম্পে ৭৩,০০০ থেকে ৮৭,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন। আহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৩৮,০০০। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১৯,০০০ শিক্ষার্থী ছিলেন যারা তাদের ধসে পড়া স্কুল ভবনের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী,
- পাকিস্তানে নিহত প্রায় ৭৯,০০০ জন (সরকারি হিসাব)
- ভারতে নিহত ৭০০ থেকে ১,৪০০ জন
- আফগানিস্তানে নিহত ৪ জন
- মোট আহত ১,০৬,০০০-এর বেশি মানুষ
· পরিবহন ও অবকাঠামো:
ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ফলে অনেক সড়ক ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকার্যকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। বহু সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
· ভূমিধস:
এই ভূমিকম্প হাজার হাজার ভূমিধসের সৃষ্টি করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হল— ‘হাট্টিয়ান বালা’ নামক স্থানে সংঘটিত একটি বড় আকারের পাথর ধ্বস, যার আয়তন ছিল প্রায় ৮০ মিলিয়ন ঘনমিটার। এই ভূমিধসে একটি গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ফলে প্রায় ১,০০০ মানুষ প্রাণ হারায় । এটি Karli এবং Tang নদীর উপত্যকা অবরুদ্ধ করে দুইটি হ্রদের সৃষ্টি করে, যেগুলো পরবর্তীতে বন্যার সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের তাংধার ও উরি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ভূমিকম্প-পরবর্তী ভূমিধসের কারণে অনেক পাহাড়ি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করেছিল ।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের তাংধার ও উরি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ভূমিকম্প-পরবর্তী ভূমিধসের কারণে অনেক পাহাড়ি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করেছিল ।
🏚️ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতা :
এই বিপর্যয়ের পর স্থানীয় জনতা, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে।· স্থানীয় সাড়া:
স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিষ্ঠানগুলি অত্যাবশ্যকে অত্যাবশ্যিক খাদ্য, পানিয় ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করে। পাকিস্তান মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের বিশেষ বিভাগ, এবং বিমান বাহিনীর বিশেষ ইউনিট উদ্ধার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
· আন্তর্জাতিক সাহায্য:
NATO এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সত্তা ত্রাণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারত ও পাকিস্তান তাদের মধ্যে Line of Control-এ পাঁচটি crossing point খুলে দেয়, যাতে ত্রাণ সামগ্রী ও সাহায্য পৌঁছানো যায়। মোট আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়।
সহায়তায় ভারতের ভূমিকা :
প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, ভূমিকম্পটিতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে।
· ত্রাণ সরবরাহ: ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করে ।
· উদ্ধারকর্মী প্রেরণ: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে ৬৩ জন উদ্ধারকর্মী পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাহায্যকারী দল নিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ি ভূমিধসের শিকার হন, যা এই অঞ্চলে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ ও আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
· সীমান্ত খুলে দেওয়া: ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control) বরাবর পাঁচটি ক্রসিং পয়েন্ট খুলে দেওয়া হয়, যাতে ত্রাণ সামগ্রী ও সাহায্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায় ।
২০০৫ সালের কাশ্মীর ভূমিকম্প ছিল একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে আক্রান্ত মানুষগুলো।
------------xx-----------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন