ভারতের প্রথম চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ
ভারতের প্রথম চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ
India's first lunar mission launched
২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর। ভারতের প্রথম চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা হয়। এই চন্দ্রযানের নাম ছিল চন্দ্রযান-১। এটা ছিল ভারতের প্রথম লুনার প্রোব উৎক্ষেপন। পরবর্তীকালে সেটি চাঁদে জলের সন্ধান পায়। অন্ধ্রপ্রদেশের সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে চন্দ্রজান-১ উৎক্ষেপন করা হয়। উৎক্ষেপণের দায়িত্বে ছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর।
মিশনটির মূল তথ্য
বিষয় বিবরণ
মিশন ধরন চান্দ্র অরবিটার ও ইমপ্যাক্টর (মুন ইমপ্যাক্ট প্রোব)উৎক্ষেপণের তারিখ ও স্থান ২২ অক্টোবর ২০০৮; শ্রীহরিকোটা, অন্ধ্রপ্রদেশ
উৎক্ষেপণ যান পিএসএলভি-সি১১
অভিযানের ব্যাপ্তি প্রায় ১০ মাস (৮ নভেম্বর ২০০৮-এ চান্দ্র কক্ষপথে প্রবেশ; ২৮ আগস্ট ২০০৯-এ শেষ যোগাযোগ)
প্রধান আবিষ্কার চাঁদের মাটিতে জল-অণুর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ
🔭 মিশনের লক্ষ্য ও বৈজ্ঞানিক ভূমিকা
চন্দ্রযান-১-এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল উচ্চ-রেজোলিউশনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠের রাসায়নিক, খনিজ ও ত্রিমাত্রিক ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র তৈরি করা । এই লক্ষ্য অর্জনে যানটিতে মোট ১১টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বহন করা হয়েছিল ।· আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:
পাঁচটি যন্ত্র ছিল ভারতীয় (ISRO)-এর এবং বাকি ছয়টি যন্ত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার, যেমন নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং বুলগেরিয়ান স্পেস এজেন্সির ।
· জল-এর অনুসন্ধান:
মিশনটির একটি বিশেষ গুরুত্ব ছিল চাঁদের মেরু অঞ্চলে বরফ আকারে জলের সন্ধান করা ।
🗓️ উল্লেখযোগ্য অর্জন ও মাইলফলক
· চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ:
২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর যানটি সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে, যা ভারতকে চন্দ্র অভিযানে এশিয়ার শীর্ষ রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি স্থাপন করে।
· মুন ইমপ্যাক্ট প্রোব (MIP):
১৪ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে অরবিটার থেকে একটি ইমপ্যাক্ট প্রোব (MIP) বিচ্ছিন্ন হয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে শ্যাকলটন ক্রেটার এলাকায় সফলভাবে আঘাত হানে। এটি চাঁদের মাটিতে ভারতের পতাকা বহন করেছিল এবং আঘাতের মুহূর্তে চাঁদের বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের সম্ভাব্য উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়েছিল। এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের পঞ্চম জাতি হিসেবে চন্দ্রপৃষ্ঠে কোনো নভোযান পাঠানোর কৃতিত্ব অর্জন করে।
তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই চন্দ্রযান-১ তার ৯৫% এরও বেশি বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় । এর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য ছিল নাসার "মুন মিনারোলজি ম্যাপার" (M3) যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদের মেরু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে জল-অণু (ওয়াটার মলিকিউল) থাকার প্রমাণ সংগ্রহ । এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চাঁদে ভবিষ্যৎ মানব অভিযানের পথ প্রশস্ত করে।
চন্দ্রযান-১ কেবল একটি মহাকাশ অভিযানই ছিল না, এটি একটি জাতির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘোষণা ছিল, যার সাফল্য পরবর্তীতে চন্দ্রযান-২ এবং চন্দ্রযান-৩ এর মতো আরও জটিল মিশনের ভিত্তি তৈরি করে ।
আপনি কি চন্দ্রযান-১-এর সঙ্গে বহন করা ১১টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বা তার প্রেরিত বিশেষ কোনো ছবি সম্পর্কে আরও জানতে চান?
⚠️ মিশন সমাপ্তি ও উত্তরাধিকার
পরিকল্পিত দুই বছরের পরিবর্তে, ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট মহাকাশযানটির সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে অত্যধিক তাপমাত্রা এবং তার স্টার সেন্সরের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয় ।তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই চন্দ্রযান-১ তার ৯৫% এরও বেশি বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় । এর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য ছিল নাসার "মুন মিনারোলজি ম্যাপার" (M3) যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদের মেরু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে জল-অণু (ওয়াটার মলিকিউল) থাকার প্রমাণ সংগ্রহ । এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চাঁদে ভবিষ্যৎ মানব অভিযানের পথ প্রশস্ত করে।
চন্দ্রযান-১ কেবল একটি মহাকাশ অভিযানই ছিল না, এটি একটি জাতির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘোষণা ছিল, যার সাফল্য পরবর্তীতে চন্দ্রযান-২ এবং চন্দ্রযান-৩ এর মতো আরও জটিল মিশনের ভিত্তি তৈরি করে ।
আপনি কি চন্দ্রযান-১-এর সঙ্গে বহন করা ১১টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বা তার প্রেরিত বিশেষ কোনো ছবি সম্পর্কে আরও জানতে চান?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন