ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কী
ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কী?
![]() |
| ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কী |
What is Insulin Resistance?
ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কেন হয়? শরীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের প্রভাব কেমন? ইনসুলিন রেসিস্টেন্স প্রতিরোধের উপায় কী?
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স কী?
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance) হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের কোষগুলি অগ্ন্যাশয় (Pancreas) দ্বারা উৎপাদিত ইনসুলিন হরমোনের প্রতি কম প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যায়। অর্থাৎ কোষগুলি ইনসুলিনের ডাকে সাড়া দেয় না।ইনসুলিন একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যখন খাবার খাই, তখন গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করে। ইনসুলিন এই গ্লুকোজকে শরীরের কোষগুলিতে (যেমন পেশী, চর্বি এবং যকৃৎ কোষে) প্রবেশ করতে সাহায্য করে, যাতে কোষগুলি শক্তি হিসাবে এটি ব্যবহার করতে পারে বা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে পারে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কেন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন, সূর্যমুখী, ভুট্টা, বা সরষের মতো তেলে থাকে কিছু ফ্যাটি এসিড। এই ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে, সে শরীরের ভেতরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। এই প্রদাহ ছড়িয়ে পড়ে রক্তনালী, লিভার, অগ্নাশয় ইত্যাদি অঙ্গে। তখন কোষের ভেতরে চর্বি জমতে থাকে। আর সেই চর্বিই কোষের ভিতরে গ্লুকোজের প্রবেশকে আটকে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য অগ্নাশয় মরিয়া হয়ে ইনসুলিন তৈরির পরি প্রক্রিয়াকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ইনসুলিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনসুলিন যতই তৈরি হোক, চর্বির প্রাচীর সে ভেদ করে গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঢোকাতে পারেনা। এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’।
ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কীভাবে হয় :
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হঠাৎ করেই শুরু হয় না। এর পিছনে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি চলে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কোষের ভিতরে চর্বি জমে গেলে সেই চর্বিই গ্লুকোজকে কোষের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না। এই পরিস্থিতিতে—- কোষের বধিরতা : কোষের ভিতর চর্বি জমে গেলে কোষগুলো ইনসুলিনের নির্দেশ ভালোভাবে শুনতে পায় না বা সাড়া দেয় না।
- গ্লুকোজ জমা হওয়া : এই কারণে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে সঠিকভাবে ঢুকতে পারে না। ফলে তা রক্তপ্রবাহেই জমা হতে থাকে।
- ইনসুলিনের উৎপাদন বৃদ্ধি : এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অগ্ন্যাশয় আরও বেশি করে ইনসুলিন তৈরি করতে থাকে। এই অবস্থাকে ‘হাইপারইনসুলিনেমিয়া’ বলে।
- অগ্নাশয়ের অতি সক্রিয়তা : যতক্ষণ অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারে, ততক্ষণ কোনো সমস্যা হয় না।
- অগ্নাশয় দুর্বলতা : কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, একসময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আরও বেড়ে যায়। কারণ, অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত (পড়ুন অতিরিক্ত) ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স-এর প্রভাব :
দীর্ঘস্থায়ী ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে ‘প্রি-ডায়াবেটিস’ বলা হয়। এই সময় একে কন্ট্রোল করতে না পারলে, একসময় তা ‘টাইপ ২ ডায়াবেটিস’-এ পরিণত হতে পারে। এই ডায়াবেটিক অবস্থা হৃদরোগ, স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার এবং উচ্চ রক্তচাপ’-এর মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করার উপায় :
ওডিএম ক্লিনিক এর অধিকর্তা চিকিৎসক আশীষ মিত্রের মতে, ডায়াবেটিস এরাতে চাইলে
- ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড, কেক পেস্ট্রি, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি খাদ্য তালিকা থেকে এখনই বাদ দেওয়া দরকার।
- এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীর চর্চা করাও জরুরী। কারণ শরীর চর্চার ফলে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ টেনে নেয়। আর তাতেই ইনসুলিনের কাজ সহজ হয়ে যায়।
- খাবারে অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার কমাতে হবে।
উল্লেখ্য, এই ধরনের সমস্যা, যারা প্রচন্ড শারীরিক পরিশ্রম করেন, আর্থিক দিক থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তাদের এই সমস্যা হয় না বললেই চলে। এই সমস্ত মানুষদের জন্য ইনসুলিন রেজিস্টেন্স প্রতিরোধ করার উপায় সম্পর্কিত প্রথম পরামর্শটি মানলেই যথেষ্ট।
যদিও এটাও ঠিক যে, এই শ্রেণির মানুষের পক্ষে ওই ফুটগুলো কিনে খাওয়া খানিকটা দিবা স্বপ্নের মত। আরে কারণেই তাদের এই ধরনের ‘জীবনশৈলীর ত্রুটিজনিত’ রোগ হয় না বললেই চলে।
------------xx-----------


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন