অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি কী?
‘অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি’ কী?
What is the Aphrodite method?
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি কী?
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি হল এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নিরাময় করা যায়। পুরুষ বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ হলো শরীরে গোনাডোট্রপিন হরমোনের অভাব। যে সমস্ত পুরুষ মানুষের শরীরে এই হরমোন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয় না, তারা এই বন্ধ্যাত্বের শিকার হন। ব্রাজিলের বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ স্যান্ড্রো এস্টিভস ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই চিকিৎসা পদ্ধতি (অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি) আবিষ্কার করেন।
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতির প্রয়োগ :
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি চিকিৎসা পদ্ধতিতে বন্ধ্যাত্বের শিকার পুরুষের শরীরে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় গোনাডোট্রপিন হরমোন প্রবেশ করানো হয়। ফলে পুরুষের শরীর ধীরে ধীরে শুক্রাণু উৎপাদন শুরু করে। বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ স্যান্ড্রো এস্টিভস ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রমাণ করে দেখান যে, হরমোন থেরাপির সাহায্যে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব রোগ থেকে মুক্ত করা যায়।
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতির ফলাফল ;
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় পুরুষের বন্ধ্যাত্বকে অ্যাজোস্পার্মিয়া (বাংলায় শুক্রাণুহীনতা) বলা হয়। অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতিতে অ্যাজোস্পার্মিয়ায় আক্রান্ত পুরুষের শরীরে গোনাডোট্রপিন হরমোন প্রবেশ করানোর মাধ্যমে এই শুক্রহীনতার শিকার পুরুষের শরীরে শুক্রানুর সংখ্যা স্বাভাবিক করা যায়। এভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা স্বাভাবিক হলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই পুরুষ সন্তান উৎপাদনের (গর্ভধারণের) ক্ষমতা অর্জন করে।
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতির প্রথম প্রয়োগ :
ভারতে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করেছেন বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সুজয় দাশগুপ্ত। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ডাক্তার সুজয় দাসগুপ্ত কলকাতার ‘জিনোম ফার্টিলিটি সেন্টার’-এ এই থেরাপি (অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি) প্রয়োগের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন এবং স্বাভাবিক যৌন মিলনের মাধ্যমে দেশে প্রথম গর্ভধারণের এবং সন্তান জন্মানোর নজির সৃষ্টি করেছেন। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রথম শুরু হয় ব্রাজিলে।
মনে রাখা দরকার, এই পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ করা হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রিষড়ার মিত্র দম্পতির উপর। এই দম্পতির একজনের বয়স ৪৪ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৩৫ বছর। তারা দীর্ঘদিন সন্তানহীনতায় ভুগছিলেন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য তারা ডাক্তার সুজয় দাশগুপ্তর শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন এই দম্পতি শুক্রাণুহীনতার শিকার। ডাক্তার দাশগুপ্ত বুঝতে পারেন গোনাডোট্রপিন হরমোনের সমস্যাতেই তার শরীরের এই গন্ডগোল। তাঁর কথায়, “তখনই আমরা এফ্রডাইড পদ্ধতি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিই। এই পদ্ধতির ভালো-মন্দ জানানোর পরে মিত্র দম্পতি তাতে সম্মতি দেন। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শরীরে শুক্রাণু উৎপাদন শুরু হলে, ইকসি (ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন) পদ্ধতির সাহায্য নেব।”
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ৯ মাস হরমোন থেরাপির পর দেখা গেল রোগীর শরীরে স্পার্ম কাউন্ট বেড়ে প্রায় ৭০ লক্ষ হয়ে গেছে, যাকে প্রায় স্বাভাবিক মাত্রা হিসাবে ধরা হয়। ডাক্তার সুজয় দাশগুপ্তের কথায়, “ওঁরা ইকসি-র জন্য যখন আমাদের ক্লিনিকে আসেন, তখন আমরাও অবাক হয়ে দেখি, কোন কৃত্রিম বা সহায়ক উপায় নয়, বরং স্বাভাবিক মিলনের ফলেই সন্তান সম্ভাবনা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী।” অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তাদের একজন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
অ্যাফ্রোডাইট পদ্ধতি বিষয়ে পরামর্শ :
ডাক্তার দাশগুপ্তের পরামর্শ হলো, যত তাড়াতাড়ি অ্যাজোস্পার্মিয়া চিহ্নিত হয় এবং এই হরমোন থেরাপীর প্রয়োগ শুরু করা যায়, এই পদ্ধতির সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে। কারণ, যত দিন যায় সংখ্যায় ও মানে শুক্রাণু উৎপাদনের সম্ভাবনা ততই কমে যায়। তাই হরমোন থেরাপি শুরুর ক্ষেত্রে বেশি দেরি না করাই ভালো।
------------xx-----------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন