ভারতের জাতীয় সংগীত লেখার পটভূমি
ভারতের জাতীয় সংগীত লেখার পটভূমি :
জনগণমন প্রথম গাওয়া হয়: ২৭ ডিসেম্বর ১৯১১ কলকাতায়
গানটির পান্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, কবে ও কোথায় রচিত তাও জানা যায় না। 'ভারতের জাতীয় কংগ্রেস'-এর ২৬তম বার্ষিক অধিবেশন ২৬-২৮ ডিসেম্বর ১৯১১ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে এই গানটি প্রথম জনসমক্ষে গাওয়া হয় সমবেতকণ্ঠে, ২৭ ডিসেম্বর। গানের রিহার্সাল হয়েছিল ডা: নীলরতন সরকারের হ্যারিসন রোডের বাড়িতে, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরের দিন 'দ্য বেঙ্গলি পত্রিকা' গানটির ইংরেজি অনুবাদ সহ সংবাদটি পরিবেশন করে। 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় (মাঘ ১৩১৮) প্রথম প্রকাশিত গানটির পরিচয় দেওয়া হয় ব্রহ্মসংগীত বলে এবং এবছরের মাঘোৎসবেও গানটি ‘ব্রহ্মসংগীত’ বলে গীত হয়।গানটিকে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে রবীন্দ্রনাথের বিরোধীগণ প্রচার করেন, গানটি সম্রাট পঞ্চম জর্জের ভারতে আগমনকে উপলক্ষ করে রচিত। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র পুলিনবিহারী সেন গানটি রচনার উপলক্ষ জানতে চেয়ে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখলে তিনি তাঁকে লিখেছিলেন (২০ নভেম্বর ১৯৩৭):
"...সে বৎসর ভারতসম্রাটের আগমনের আয়োজন চলছিল। রাজসরকারে প্রতিষ্ঠাবান আমার কোনো বন্ধু সম্রাটের জয়গান রচনার জন্যে আমাকে বিশেষ করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হয়েছিলুম, সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মনে উত্তাপেরও সঞ্চার হয়েছিল। তারই প্রবল প্রতিক্রিয়ার ধাক্কায় আমি জনগণমন অধিনায়ক গানে সেই ভারতভাগ্যবিধাতার জয় ঘোষণা করেছি, পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থায় যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রীদের যিনি চিরসারথি, যিনি জনগণের অন্তর্যামী পথপরিচায়ক, সেই যুগযুগান্তরের মানবভাগ্যরথচালক যে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বা কোনো জর্জই কোনোক্রমেই হতে পারেন না সে কথা রাজভক্ত বন্ধুও অনুভব করেছিলেন।..."
গানটি নিয়ে নানারূপ সাময়িক তিক্ততা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলেও রবীন্দ্রনাথ গানটিকে পরেও নানা উপলক্ষে ব্যবহার করেছেন। যেমন, দক্ষিণ ভারত পরিক্রমায় বেরিয়ে ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন মদনপল্লী-সেখানকার 'থিয়সফিক্যাল কলেজ' এর অধ্যক্ষ এবং রবীন্দ্রনাথের বন্ধু জেমস এইচ. কাজিন্স তাঁর সম্মানে এক সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন 'জনগণমন', এবং এর নামকরণ করেন 'The Morning Song of India'। সেই গানের সুর এবং অর্থগৌরব কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিভূত করেছিল- সেই গানটিই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলি সং বা বৈতালিকরূপে চলিত হয়ে যায়।
এর ১১ বছর পরে, ১৯৩০-র সেপ্টেম্বরে রবীন্দ্রনাথ জেনিভা থেকে গেলেন সোভিয়েট রাশিয়া। মস্কোয় 'পায়োনিয়ার্স কমিউন'এ অনাথ বালক বালিকারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাল। সেখানে প্রশ্নোত্তর পর্বের পর তারা কবিকে গান গাইতে অনুরোধ করতে, তিনি তাদের গেয়ে শুনিয়েছিলেন 'জনগণমন'।
------------xx-----------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন