অপারেশন কাগার’ কী?
‘অপারেশন কাগার’ কী?
- ছত্রিশগড়ের জঙ্গল থেকে সিপিআই মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং পলিটব্যুরোর সাধারণ সম্পাদক বাসকরাজুকে এনকাউন্টারের মাধ্যমে হত্যা করা সম্ভব হয়েছে।
- প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেনজীর ভাই মল্লজুলা বেনুগোপাল রাও ওরফে সোনু-সহ মোট ৬০ জন সহযোগী পার্টি ক্যাডারকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বাসুদেব রাও, যিনি রূপেশ নামে পরিচিত, প্রায় ৩০০ জন স্কোয়াড সদস্য-সহ আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন।
- ১) বস্তার, দান্তেওয়াড়া, অবুঝমাড়ের মাওবাদী প্রভাবিত গ্রামে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেবার সূচনা হয়েছে।
- ২) জনজাতি অধ্যুষিত দুর্গম অঞ্চলের পরিকাঠামো নির্মাণের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
- ৩) সকল উপদ্রুত, দারিদ্র ক্লিষ্ট প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলিতে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
“মাওবাদীরা যে মত ও পথ অনুসরণ করে শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে, কোনওরকম গণতান্ত্রিক আবহে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু মাওবাদের উত্থান ও বিস্তারের পেছনে যে পর্বত প্রমাণ অবহেলা, বঞ্চনা, অনুন্নয়ন ও নিপীড়ন দাঁড়িয়ে আছে, সমাজ থেকে সেগুলো সমূলে উৎপাটন ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে নকশালমক্ত ভারত নির্মাণ কতটা বাস্তব রচিত তা নিয়ে বিস্তার প্রশ্নের অবকাশ থেকেই যায়।”
তাঁর মতে, ভারতে নকশালবাদের সূচনা হওয়ার বহু আগেই নকশাল অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রাখা এবং উন্নয়নের আলোকিত বলয়ের পরিধির বাইরে রাখার কারণেই নকশালবাদ মাথা তুলে দাঁড়ায়। এই নকশালবাদই পরবর্তীকালে মাওবাদী মতের অনুপ্রবেশ ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে, মাওবাদীদের পথ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাদের মতকে উপেক্ষা করার মত পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। কারণ, রাষ্ট্রীয় মাদতে যেভাবে ভারতের মূল অধিবাসীদের (আদিবাসী) যেভাবে জল জঙ্গলের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তা ভারতীয় সংবিধানের বনভূমি অধিকার আইন এবং বনবাসী আদিবাসীদের জন্য সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার কে খর্ব করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এটা যদি সত্য হয়, তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে মাওবাদের দমন ‘আপত মুক্ত’ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে।
মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি জেলায় লৌহ আকরিক প্লান্ট নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ফারুক সরকার ৯৩৭ হেক্টর বনভূমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অগণিত বৃক্ষ ছেদনের মাধ্যমে অরণ্য ধ্বংস হবে প্রচুর সংখ্যক বনবাসী যারা আদতে মূল নিবাসী তারা তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হবে। ক্রমবর্ধমান এই পুঁজিবাদী আগ্রাসন থেকেই যে তথাকথিত নকশালবাদ বা মাওবাদের জন্ম হয়েছে তা মনে রাখা প্রয়োজন।
প্রাবন্ধিক দেবর্ষি ভট্টাচার্য এ কারণেই মাওবাদী সহিংসতার সঙ্গে অন্যান্য সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন—
“শুধুমাত্র মাওবাদী-নিকেশ এর মাধ্যমে আদিবাসী অধ্যুষিত বনাঞ্চলে মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমূলে উৎখাত করা কিন্তু অনিবার্যভাবেই দুরূহ হয়ে উঠবে।”
সুতরাং ‘অপারেশন কাগার’ প্রাবন্ধিক দেবর্ষি ভট্টাচার্যের মতে, তখনই সফল হবে যখন মাওবাদী সমস্যার মূল উৎপাটন করা সম্ভব হবে। কারণ, মাওবাদীদের পথ ভুল হলেও তাদের মতকে অস্বীকার করার মতো পরিস্থিতি ভারতের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো এখনও করে উঠতে পারেনি। মাওবাদীদের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রের চরিত্র, রাষ্ট্র ও পুঁজির অবাধ মেলবন্ধন, লাগামহীনভাবে জনগণের সম্পত্তির বেসরকারিকরণ, মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি রাষ্ট্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ— এগুলোই হল এই সমস্যার মূল কারণ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন