বিখ্যাত : তথ্য। তারিখ। মাস। বছর। বিষয়। ব্যক্তি খুঁজুন :

ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির উদ্বোধন

ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির উদ্বোধন :

Inauguration of the Bhasha Shahid Swarok Samiti.

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি’। সুরেন্দ্রনাথ উদ্যানে গড়ে ওঠে লালন মঞ্চ। উদ্বোধন করেন কবি অরুণ মিত্র। সভাপতিত্ব করেন মৃণাল সেন। নিয়মিত চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরা যেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উদযাপন। 

এবছর উনিশে মে, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় গৃহীত হয় 12 দফা দাবি সনদ। পেশ করা হয় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে। 
  1. অবিলম্বে আইন করে সারা রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি, বিজ্ঞাপন, পথ/পথ নির্দেশিকা সব কিছুতেই বাংলা ভাষার অগ্রাধিকার আবশ্যিক করতে হবে।
  2. শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতম পর্যায় পর্যন্ত বাংলা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। 
  3. রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। 
  4. রাজ্য সরকারি বেসরকারি চাকরির জন্য চাকরিপ্রার্থীর বাংলা জানা আবশ্যিক করতে হবে। 
  5. কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের ইংরেজি নাম এবং বানান   KOLKATA ও PASHCHIM BANGLA করতে হবে।
সেদিনের আন্দোলনে ক্যালকাটা হলো কলকাতা। দোকান পাত্রের হোডিং এ বাংলা ব্যবহারের উদ্যোগ কিছুটা হলেও দেখা গেল। কিন্তু তারপর...
নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী আনন্দবাজারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন, “প্রাথমিকভাবে কিছু সাড়া পড়লেও, আমি কিছু লোকের মধ্যে অন্তত এটা হয়েছিল যে বাংলা ভাষা বড় অবহেলিত হয়ে আছে বাংলাতেই এবং তার জন্য আমরারাই, বাঙালিরাই দায়ী। বাংলা ভূখণ্ডের মানুষেরাই অন্য প্রদেশের মানুষেরা তত নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দির আগ্রাসন কিছুটা ছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু মূলত আমাদেরই এ বিষয়ে উদাসীনতার জন্য অবহেলার জন্য বাংলার এই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারতো ততটা হয়ে উঠছিল না। আমাদের ‘ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি’ যেটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে মূলত সুনীল গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে এবং উদ্যোগে দোকানপাটগুলোতে যে সাইনবোর্ড গুলো লাগানো হয়, সেগুলো বাংলায় লেখা হবে। এবং বাইরে অনেক নজির আছে। দক্ষিণে গেলে তো দেখাই যায় আমাদের তো সেই ধরনের ভাষার ব্যাপারে রক্ষণশীল কিংবা আক্রমণাত্মক কোনটাই দেখা যায় না। ভাষা আছে কিন্তু সেই ভালোবাসা নেই। ”
“বাঙ্গালীদের সম্পর্কে একটা রেজিস্ট্যান্স রাজনীতিগতভাবে তৈরি হয়েছে বলে আমার মনে হয়। আর আমরা নিজেরা যদি নিজেদের শক্তিশালী মনে করতে না পারি, এত ভাষাভাষী দেশে নিজের ভাষাকে শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা না করি তাহলে তো একটা সময় ভাষাটাকে অন্যেরাও নিচে চোখে দেখতে শুরু করবে। আগে তো করত না। 

ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি যেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিতে জড়াবার কথা নয়, কিন্তু আমাদের এখানে জড়িয়ে যাচ্ছে। একেবারে চোখের সামনে জা জল্লমান। তেমনি ভাষাটাও যদি রাজনীতির জন্য ভাষাটাকে নিয়ে ওই রকম একটা জড়ানোর চেষ্টা চলে যেটা আমরা ফিল করি কিংবা ওরা ফিল করছে সেটা প্রমাণ সাপেক্ষ। কিন্তু হচ্ছে যে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।”

শ্রমিকদের ব্যাপারে একটা দেখা যাচ্ছে, যারা সব দেশেই বোধ হয় তারা পরিচয় হারা মানুষ। বাঙালিকে অন্নপ্রদেশের মানুষ সহ্য করতে পারছে না, বাংলা বললেই তাড়িয়ে দিচ্ছে এ ব্যাপারটা আমার কাছে একটা অদ্ভুত ঠিকছে। এখানে তো প্রচুর হিন্দিভাষী মানুষ আছে। সাধারণ শ্রমিক মানুষ কোন রকম ভাবে দিনযাপন করছে সেরকম মানুষ এখানে তো আছে। তাদের ওপর কি সেই অত্যাচার হচ্ছে? হচ্ছে না তো! তাহলে শুধুমাত্র বাঙ্গালীদের ব্যাপারে হবে কেন? এটাও তো একটা মনে খটকা লাগে। যে কেন হবে? হওয়ার কথা নয়। আমি জানিনা। এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণটা করা দরকার। খালি খালি স্লোগান ধর্মী তা নয় কোন গুজব শুনে কিংবা লোকের কথা শুনে রিয়াক্ট করার পক্ষপাতি আমি নই অন্তত।”

আমার তো মনে হয় এটা নষ্ট করেছে বাঙালি। কলকাতার মুখ থেকে বাংলা মাধ্যম স্কুল উঠে যাওয়া, স্কুল গুলো কোথায় গেল? এখনো যে বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলো আছে সেখানে ছাত্র শিক্ষক রেশিওটা ঠিকভাবে আছে? এই যে ব্যাপারগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে বা অন্য ক্ষেত্রে কিংবা সরকারি ক্ষেত্রে সব জায়গায় কি বাংলার ব্যবহার সঠিকভাবে হচ্ছে? ভোটকে কেন্দ্র করে এগুলো হচ্ছে। অন্য কিছুকে কেন্দ্র করে নয়। ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য কিংবা তার উৎসাহ প্রদানের জন্য এগুলো হচ্ছে না। এই চিন্তাগুলো হচ্ছে না যে বাংলা সিনেমা হল গুলো কেন উঠে গেল। বাংলা থিয়েটার কেন উঠে গেল। গ্রুপ থিয়েটার কেন আর এগোতে পারছে না। একটা জায়গায় সে আটকে গেল। শম্ভু মিত্র উৎপল দত্তদের যে থিয়েটার করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র সত্যজিৎ রায় মৃণাল সেন ঋত্বিক ঘটক তপন সিংহ এরা যে আমাদের উৎসাহিত করেছে, সেটা এগোচ্ছে না কেন? এই ব্যাপারগুলো গেল কোথায়? এগুলো হোক। এগুলো হলে তো বাংলার মধ্য থেকেই একটা এ হবে। এমনকি বাংলার বাইরে থেকেও প্রভাবিত হবে।

আগে বাংলা পথ দেখিয়েছে ঠিকই এক সময়। সেই রকম যদি এখানে সেই আবহাওয়া গড়ে তোলা যেত আবহাওয়াটা তৈরি করা যেত কিংবা ওটা বজায় থাকতো তাহলে তো এরকম হতো না। 

“যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা য় গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাকে সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। মানে লেখাপড়ার স্তর থেকে শুরু করে জীবিকার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। আমি জানি বাংলার পাশ করে বসে আছি বাংলায় এমএ পাস করে বসে আছে চাকরি নেই। বাংলায় চাকরি সেরকমভাবে জোটছে না। নিজের কাছের মানুষকে নিজের ঘরের নিজের পল্লীতে নিজের মহল্লায় নিজের রাজ্যে নিজের রাষ্ট্রে এটা করাটাই সে সবচেয়ে প্রকৃষ্ট পন্থা। তাছাড়া ওই সংরক্ষণ করে বাংলায় এটা করতে হবে, এটা চালু করতে হবে এইটা দিয়ে হবে না।”
-------

ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি: একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন
১. নির্বাহী সারসংক্ষেপ: এক বিভক্ত জাতির সম্মিলিত স্মৃতিরক্ষক
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যা বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিবেদনটি বিশদভাবে প্রমাণ করে যে, এই সমিতি ১৯৯৪ সালে (বাংলা ১৪০৫ সনে) প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং একই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পশ্চিম বাংলায় আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা । সমিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে একটি স্থায়ী শহীদ স্মারক স্থাপন, যা বর্তমানে 'ভাষা উদ্যান' নামে পরিচিত। এই উদ্যানটি কেবল একটি স্মৃতিসৌধ নয়, বরং এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক মিলনস্থল যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে অতিক্রম করে দুই বাংলার বাঙালিদের একটি অভিন্ন ভাষাগত পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে কাজ করে । এই সমিতি তার প্রতিষ্ঠা থেকেই বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যা এর উদ্দেশ্যগুলোকে কেবল স্মরণীয় করে রাখেনি বরং একে একটি সক্রিয় আন্দোলনের রূপ দিয়েছে।
২. ভূমিকা: কলকাতায় স্মরণের সাংস্কৃতিক প্রয়োজনীয়তা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলন কেবল একটি ভাষাগত অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ছিল না, বরং এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছিল । যদিও এই আন্দোলন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত হয়েছিল, এর গভীর প্রভাব তৎকালীন পূর্ব বাংলার সকল মানুষের পাশাপাশি সমগ্র বাঙালি জাতিকে স্পর্শ করেছিল । এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যার নেতৃত্ব কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্রসমাজ দিয়েছিল । এই আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জিত হয় ।
এই প্রেক্ষাপটে, তৎকালীন পশ্চিম বাংলায় এমন একটি আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অভাব অনুভূত হয়। ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির গঠন সেই অভাব পূরণের একটি সরাসরি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ছিল। এটি একটি প্রশ্নকে মোকাবিলা করেছিল: কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ একটি এমন ঐতিহাসিক ঘটনাকে সম্মান জানাবে যা তার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে ঘটেছে? এর উত্তর ছিল একটি শারীরিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিসর তৈরি করা, যা উভয় বঙ্গের বাঙালিদের জন্য একটি অভিন্ন ভাষাগত ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে। এই সমিতি মূলত বিভাজনের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি জাতির shared heritage বা সম্মিলিত ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা ছিল।
৩. উদ্ভব ও তারকা সমাবেশ: একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি প্রতিষ্ঠার মূল ঘটনাটি ঘটেছিল বাংলা ১৪০৫ সনে, যা ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের সমতুল্য। এটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে । সমিতির এই প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র একটি নতুন সংগঠনের জন্ম নয়, বরং এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সূচনা, যার লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রচার ।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতীকী নেতৃত্ব
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব গ্রহণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী। তাঁর জীবনই ছিল বাংলা বিভাজনের একটি প্রতিচ্ছবি । তিনি জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের মাদারীপুরে, যা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি শৈশবেই কলকাতায় চলে আসেন । এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে এক অনন্য নৈতিক অধিকার এনে দেয়। তিনি কেবল একজন কবি বা ঔপন্যাসিক ছিলেন না, বরং তিনি দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও ইতিহাসকে ধারণ করতেন। তাঁর নেতৃত্বে এই সমিতি একটি স্থানীয় সংগঠন থেকে একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, যা একটি অভিন্ন বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে যে আধুনিক বাঙালি চেতনার বাহক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, এই সমিতির মাধ্যমে তিনি সেই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। তিনি সঠিকভাবে অনুধাবন করেছিলেন যে, একটি স্থায়ী আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র মৌখিক সমর্থন যথেষ্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিজীবী মহলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই মহতী উদ্যোগে যোগ দিয়েছিলেন বাংলার আরও বেশ কিছু প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, যা সমিতির গুরুত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। সভাপতি ও উপদেষ্টা হিসেবে এই সমিতিতে যুক্ত ছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, যোগেন চৌধুরী এবং বিভাষ চক্রবর্তী । এই ব্যক্তিত্বদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলা সংস্কৃতির প্রহরীদের একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন—কেউ কবি, কেউ অভিনেতা, কেউ চিত্রশিল্পী। তাঁদের একত্রিত হওয়া এই বার্তা দেয় যে, ভাষা ও সংস্কৃতির এই সংগ্রামটি ছিল রাজনৈতিক প্রবণতা বা সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে একটি আদর্শের সংগ্রাম। এই সম্মিলিত সমর্থন সমিতির দীর্ঘস্থায়ীত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে, যা একে একটি ক্ষণস্থায়ী আবেগপ্রসূত প্রকল্প থেকে একটি স্থায়ী আদর্শে রূপান্তরিত করেছে ।
৪. লক্ষ্য ও সক্রিয় আন্দোলন: স্মারকের চেয়েও বড় কিছু
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করে যার মূল লক্ষ্য হলো বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার । এটি কেবল একটি স্মারক উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণ করে না, বরং এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবন্ত রাখার জন্য নিরন্তর কাজ করে।
দ্বিবিধ উদ্দেশ্য: স্মরণ ও প্রচার
সমিতির লক্ষ্য দ্বিমুখী: প্রথমত, এটি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে । দ্বিতীয়ত, এটি নীতিগতভাবে ভাষার অধিকারের জন্য সক্রিয়ভাবে লবিং করে। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সরকারি ও বেসরকারি সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে আবশ্যিক করা।
রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নামফলকে বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ।
এই লক্ষ্যগুলো প্রমাণ করে যে, সমিতি শুধুমাত্র অতীতের স্মরণে আবদ্ধ ছিল না, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। তাদের কাছে স্মারক নির্মাণ একটি শেষ লক্ষ্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বৃহত্তর আদর্শের সূচনা।
কর্মপন্থা ও প্রভাব
সমিতি তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রানি রাসমণি রোডে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনশন ও বিক্ষোভ । এছাড়াও, সমিতি ভারতের মানভূম জেলার বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদ লাবণ্যপ্রভা ঘোষ-এর মতো ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান করেছে । এই সম্মাননা সমিতির আদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যা শুধু পূর্ব বাংলার নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরেও বাংলা ভাষার জন্য হওয়া বিভিন্ন আন্দোলনকে স্বীকৃতি দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, সমিতির দৃষ্টি ছিল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে, যা সকল ধরনের ভাষাগত সংগ্রামের প্রতি সংবেদনশীল ।
এই কর্মপদ্ধতি থেকে একটি গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করা যায়। এই সমিতি ঐতিহাসিক স্মৃতিকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত না করে, তাকে একটি চলমান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেছে। স্মারকটি তাদের আন্দোলনের একটি দৃশ্যমান প্রতীক, যা মানুষের মধ্যে সেই চেতনাকে জাগ্রত রাখে এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষাগত অধিকারের লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করে।
৫. শারীরিক প্রতীক: কলকাতার ভাষা উদ্যান ও তার স্থান
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি তার উদ্দেশ্যগুলোকে একটি দৃশ্যমান রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে একটি স্মৃতিসৌধ স্থাপনের মাধ্যমে।
ভাষা শহীদ স্মারক, কলকাতা (১৯৯৮)
কলকাতার প্রথম ভাষা শহীদ স্মারকটি ১৯৯৮ সালে মধ্য কলকাতার ধর্মতলা অঞ্চলে অবস্থিত সুরেন্দ্রনাথ পার্কের একাংশে প্রতিষ্ঠিত হয় । এই অংশটির নামকরণ করা হয় 'ভাষা উদ্যান' । প্রখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় এই স্মারকের উদ্বোধন করেন, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং প্রধান অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন । এই স্মারকটি পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের জন্য একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি একটি নীরব কিন্তু দৃঢ় বিবৃতি ছিল যে, ভৌগোলিক বিভাজন সত্ত্বেও ভাষা ও সংস্কৃতি তাদের অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছে।
স্মারকগুলোর মধ্যে পার্থক্য
প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কলকাতার এই স্মারকটিকে অন্যান্য ভাষা শহীদ স্মারক থেকে আলাদা করে এর স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা: ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হলো বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রধান স্মৃতিসৌধ। এর নকশা ও নির্মাণ একটি দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাসের মধ্য দিয়ে গেছে । এটি ১৯৫২ সালের একটি অস্থায়ী কাঠামোর পর, ১৯৫৭ সালে স্থপতি হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের মূল নকশার ভিত্তিতে নির্মাণ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয় । এই মিনারটি একটি জাতির জন্ম ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক, যা রাষ্ট্র কর্তৃক নির্মিত ও পরিচালিত ।
ভাষা স্মৃতিস্তম্ভ, দেশপ্রিয় পার্ক: এটি কলকাতার দ্বিতীয় ভাষা স্মারক, যা ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হয় । এই স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা করেছেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। এটিও ভাষা শহীদদের প্রতি উৎসর্গীকৃত হলেও, এটি ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির তৈরি স্মারক নয় ।
এই স্মারকগুলোর পার্থক্য থেকে একটি গভীর উপলব্ধি পাওয়া যায়। ঢাকার শহীদ মিনারটি একটি স্বাধীন জাতির রাষ্ট্রীয় প্রতীক, যা তার জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতার ভাষা স্মারকটি একটি বেসরকারি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। এই পার্থক্যটি দুই বাংলার মধ্যে ভাষাগত পরিচয়ের ভিন্ন কিন্তু সংযুক্ত সম্পর্ককে তুলে ধরে। ঢাকার স্মারকটি একটি জাতির স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ের প্রতীক, আর কলকাতার স্মারকটি একটি সাংস্কৃতিক ঐক্য ও স্মরণের প্রতীক, যা একটি ব্যক্তিগত এবং আবেগপ্রবণ প্রচেষ্টার ফল।
৬. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও চিরন্তন উত্তরাধিকার
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির কার্যক্রম কেবল স্মারক নির্মাণে শেষ হয়নি। এটি একটি জীবন্ত ও সক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কাজ চালিয়ে গেছে।
বার্ষিক উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
সমিতি প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যা ভাষা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় । এছাড়া, ২০০০ সাল থেকে এই সমিতি 'বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসব' আয়োজন করে আসছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল ও অতুলপ্রসাদের গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন লোকনৃত্য ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয় । এই উৎসবে সারা দেশ থেকে প্রায় ৭৫০০ সাহিত্যিক, শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবী অংশগ্রহণ করেছিলেন । এই ধরনের আয়োজন সমিতির মূল লক্ষ্য—বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার—কে কার্যকরীভাবে তুলে ধরে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি
২০১২ সালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরেও এই সমিতি তার কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বর্তমানে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বিভাষ চক্রবর্তী, এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন চিত্রিতা লাহিড়ী । সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অবর্তমানেও সমিতির সক্রিয় থাকা তার দূরদর্শিতার একটি প্রমাণ। তিনি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন যা তার ব্যক্তিগত উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল ছিল না। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, সুনীলের উত্তরাধিকার কেবল তাঁর সাহিত্যকর্মে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যমান, যা তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে চলেছে।
৭. উপসংহার: একটি ধারণার স্থায়িত্ব
ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি একটি অনন্য ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। এটি ছিল পশ্চিম বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের একটি সচেতন প্রচেষ্টা, যা বাঙালি জাতির এক pivotal moment-এর (গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ) সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার জন্য করা হয়েছিল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও তার সহকর্মী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সমিতি সফলভাবে কেবল একটি স্মৃতিসৌধই নির্মাণ করেনি, বরং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে একটি সক্রিয় মঞ্চ তৈরি করেছে। এর উত্তরাধিকার শুধুমাত্র ইট-কাঠের তৈরি একটি স্মারকে নয়, বরং একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক চেতনার মধ্যে নিহিত। এই সমিতি প্রমাণ করে যে, ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ, তার স্মৃতি কোনো সীমানা বা রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দুই বাংলার প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল জীবন্ত থাকবে।
----+++-------
Works cited
1. Chitra Lahiri - Calcutta Yellow Pages, https://www.calcuttayellowpages.com/adver/108544profile.html 

2. Nothing political about Bhasha Divas function | Kolkata News ..., https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/nothing-political-about-bhasha-divas-function/articleshow/4163717.cms 

3. ভাষা স্মৃতিস্তম্ভ - উইকিপিডিয়া, https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD 

4. Bhasha Smritistambha - Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/Bhasha_Smritistambha 

5. একুশের ভাষা আন্দোলন: বসন্তরাগে জাগায় লড়াইয়ের চেতনা - People's Reporter, https://www.peoplesreporter.in/literature-and-culture/ekushs-language-movement-vasantarage-evokes-fighting-spirit 

6. নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির অবজ্ঞা আত্মঘাতের সামিল - Protidiner Bangladesh, https://protidinerbangladesh.com/opinion/88497/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2 

7. শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভার কার্যবিবরণী - সভাপতি - RAJSHAHI, https://file-rajshahi.portal.gov.bd/files/seo.puthia.rajshahi.gov.bd/notices/1b6a2e84_6970_44c8_85d1_7dc853f23c78/548d673be279fe1cdbb50fcd41523e41.pdf 

8. বাংলা ভাষা আন্দোলন - উইকিপিডিয়া, https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8 

9. ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে চলে গেছে, তাদের নাম কী? - Quora, https://bn.quora.com/%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AB%E0%A7%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%A7%E0%A6%B6%E0%A7%87 

10. Sunil Gangopadhyay - Wikipedia, https://en.wikipedia.org/wiki/Sunil_Gangopadhyay 

11. শহীদ স্মারক-র বুকে অগাছা, কচি পাতায় মুখ ঢেকেছে ভাষা... - Zee News, https://zeenews.india.com/bengali/kolkata/day-before-international-mother-language-day-memorial-in-kolkata-found-in-garbage_459293.html 

12. কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গে ভাষাশহীদদের স্মরণ - প্রথম আলো, https://www.prothomalo.com/world/india/vrj1ubl476 

13. বাংলা ভাষা আন্দোলনে মানভূম-জননী-লাবণ্যপ্রভা - | নোতুন পৃথিবী, https://notunprithivi.com/bn/baamlaa-bhaasaa-anadaolanae-maanabhauuma-jananai-laabanayaparabhaa 

14. যেভাবে গড়ে ওঠে বাঙালির শহীদ মিনার - Protidiner Sangbad, https://www.protidinersangbad.com/todays-newspaper/5-mishali/383267 

15. বদলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমপ্লেক্স - The Daily Star Bangla, https://bangla.thedailystar.net/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A6-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-317221 

16. ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনার - Radio Cina Internazionale - Bengali, http://bengali.cri.cn/641/2012/02/17/41s120631.htm


মন্তব্যসমূহ

🔰 তারিখ অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 মাস অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

🔰 বছর অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 ব্যক্তি অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 বিষয় অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন :🔍

আরও দেখান

🔰 তথ্য তালাশ : জনপ্রিয় ব্যক্তি ও বিষয়গুলো দেখুন:

উসেইন বোল্ট, ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড

বিশ্ব অ্যালজেইমার্স দিবস

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মদিন

শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ পাড়ি

প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ভারতের জাতীয় প্রতীকের নকশাকার

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ার-এর জন্মদিন

বিশ্ব খাদ্য দিবস

উদ্ভাবন-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কী

জ্যোতি বসুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ

তথ্য তালাশ : অনলাইন সংকলন

আলী হোসেন, লেখক,
তথ্য তালাশ
সুপ্রিয় পাঠক,

তথ্য তালাশ-এর অনলাইন সংকলনে আপনাকে স্বাগত। 

প্রতিদিন, প্রতি নিয়ত বিশ্বজুড়ে ঘটে চলেছে নানান ঘটনা। কিছু বিখ্যাত, কিছু অখ্যাত, আবার কিছু কুখ্যাতও। এই সব হরেক ঘটনার মধ্যে থাকে এমন কিছু ঘটনা, যা মানুষ মনে রাখতে চায়, চায় স্মরণ করতে।

তথ্য তালাশ সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি। যেহেতু এটি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি, তাই যখনই প্রয়োজন পড়বে, আপনার হাতের মোবাইলে হাত রাখলেই আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মত সামনে হাজির হবে তথ্য তালাশ

আপনি কি পড়তে চান এই সংকলনটি! ক্লিক করুন এখানে