বিখ্যাত : তথ্য। তারিখ। মাস। বছর। বিষয়। ব্যক্তি খুঁজুন :

কে.সি.নাগ জীবনী: অঙ্কের জাদুকরের অজানা কাহিনি | Keshab Chandra Nag

অঙ্কের জাদুকর কে.সি.নাগ : জীবন, সাধনা ও অন্তরাল

কে. সি. নাগের জীবনী, পড়ার টেবিল ও 'নব পাটীগণিত' বইয়ের ছবি সম্বলিত ব্যানার। Banner image of mathematician K. C. Nag sitting at his study table with Nabapatiganit books
গণিতশিল্পী কে. সি. নাগ (১৮৯৩–১৯৮৭): যাঁর হাতের ছোঁয়ায় সহজ হয়ে উঠেছিল অঙ্ক শাস্ত্র।
বাঙালি ছাত্রসমাজের কাছে ‘কে.সি.নাগ’ (Keshab Chandra Nag) একটি চিরপরিচিত নাম। তৈলাক্ত বাঁশে বাঁদরের ওঠা-নামা, চৌবাচ্চার নল দিয়ে জল নিকাশি কিংবা পিতা-পুত্রের বয়সের জটিল হিসাব— এই সবের সহজ সমাধান লুকিয়ে থাকত যাঁর বইতে, তিনি আর কেউ নন, প্রবাদপ্রতিম গণিতশিল্পী কেশব চন্দ্র নাগ। তবে তাঁর এই গাণিতিক পরিচিতির আড়ালে চাপা পড়ে গেছে এক গভীর জ্ঞানপিপাসু, সাহিত্যপ্রেমী, সমাজসংস্কারক এবং মুক্তিকামী মানুষের ইতিহাস।

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

কেশব চন্দ্র নাগ ১৮৯৩ সালের ১০ই জুলাই (১৩০০ বঙ্গাব্দের ২৬শে আষাঢ়) হুগলি জেলার গুড়াপের নাগপাড়ায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের দিনটি ছিল পবিত্র রথযাত্রা। তাঁর পিতা রঘুনাথ নাগ এবং মাতা ক্ষীরোদাসুন্দরী দেবী। কেশব চন্দ্রের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। চরম আর্থিক অনটন ও প্রতিকূলতার মধ্যে মা ক্ষীরোদাসুন্দরী দেবীর একক স্নেহে ও শাসনে তাঁর শৈশব অতিবাহিত হয়।

পরিবার ও সন্তান :

  • স্ত্রী ও সন্তান: উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীর নাম লক্ষ্মীমণি দেবী এবং পুত্রের নাম দেবীপ্রসাদ নাগ।
  • পৌত্র: অত্যন্ত জনপ্রিয় তাঁর পৌত্র ত্রিদিবেশ নাগ (বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী)।

শিক্ষাজীবন: প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই

গ্রামের প্রাথমিক স্কুলেই কেশব চন্দ্রের শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর তিনি ভর্তি হন ভাস্তারা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাড়ি থেকে প্রায় ৩ মাইল পথ পায়ে হেঁটে প্রতিদিন তাঁকে স্কুলে যাতায়াত করতে হতো। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি বিহারের কিষেণগঞ্জ হাইস্কুলে চলে যান। ১৯১২ সালে তিনি প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা (এন্ট্রান্স) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতায় আসেন এবং রিপন কলেজে (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) বিজ্ঞান বিভাগে (I.Sc) ভর্তি হন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিভাগে আই.এস-সি পাস করার পর তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর প্রথাগত শিক্ষা সাময়িকভাবে থমকে যায়। পরিবারের হাল ধরতে তাঁকে উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়। তবে জ্ঞানার্জনের অদম্য স্পৃহা থেকে পরবর্তীতে তিনি প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে গণিত এবং সংস্কৃত— এই দুই বিষয়েই কৃতিত্বের সাথে বি.এ (B.A) ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন: শিক্ষকতা থেকে প্রধান শিক্ষক

কেশবচন্দ্র নাগের কর্মজীবন শুরু হয় তাঁর নিজের স্কুল ভাস্তারা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘থার্ড মাস্টার’ হিসেবে। সেখানে সামান্য বেতনে পড়ানোর পাশাপাশি তিনি টিউশনি করতেন। পরে ১৯১৭ সালে গণিত ও সংস্কৃতে বি.এ পাস। বি.এ পাস করার পর তিনি কিষেণগঞ্জ হাইস্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর কিছুকাল বহরমপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এই সময়েই বহরমপুরের কাশিমবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর লাইব্রেরি ব্যবহার করার সুযোগ পান তিনি, যা তাঁর গণিত ও ভারতীয় ইতিহাসের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছিল।

তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৯২৪ সালে। ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জহুরি চোখ এই তরুণ গণিত শিক্ষকের প্রতিভা চিনে নিতে ভুল করেনি। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে ও সনির্বন্ধ অনুরোধে কেশব চন্দ্র নাগ কলকাতার ভবানীপুরের বিখ্যাত ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’(Mitra Institution)-এ গণিতের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি এই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক হন এবং ১৯৬০ সালে এখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন। ভবানীপুরের রসা রোডের মেসবাড়ি এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কলকাতার গোবিন্দ ঘোষাল লেনের বাড়িটিই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের মূল সাধনাক্ষেত্র।

ব্যক্তিগত জীবন ও দর্শন : 

ব্যক্তিজীবনে তিনি মা সারদার একজন ভক্ত ছিলেন এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিলেন। আজীবন তিনি মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থক ছিলেন এবং চলচ্চিত্র দেখতে ভালোবাসতেন।

অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

কে. সি. নাগ মানেই কেবল কঠিন পাটীগণিতের সমাহার নয়; তাঁর জীবনের এমন কিছু দিক রয়েছে যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও অজানা:

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে চমকে দেওয়া:

 শৈশবে একবার স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (Ashutosh Mukherjee) গুড়াপে এসেছিলেন। সেখানে বালক কেশব চন্দ্র কোনো খাতা-কলম ছাড়াই মুখে মুখে অত্যন্ত জটিল একটি অঙ্কের নিখুঁত হিসাব কষে আশুতোষ বাবুকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মুগ্ধতাই পরবর্তীতে তাঁকে মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিয়ে আসার পথ সুগম করে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ১৯০৫ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অঙ্ক বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি কে.সি.নাগকে ১৯২৪ সালে সেখানে নিয়ে আসেন।

শরৎচন্দ্রের ‘গণিতশিল্পী’ উপাধি:

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Sarat Chandra Chattopadhyay) ছিলেন কেশব চন্দ্রের অন্তরঙ্গ বন্ধু। কেশব চন্দ্রের অঙ্কের বইয়ের খসড়া দেখে শরৎচন্দ্র এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে, তিনি তাঁকে ‘গণিতশিল্পী’ (Bengali mathematician) উপাধিতে ভূষিত করেন। শরৎচন্দ্র বলতেন, অঙ্কের মধ্যেও যে এমন শিল্প মাধুর্য থাকতে পারে, তা কে. সি. নাগের বই না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

অধ্যাত্মচেতনা ও নিবেদিতার লেখার অনুবাদ :

কেশব চন্দ্র নাগ পরম রামকৃষ্ণভক্ত ছিলেন। তিনি শ্রীশ্রী সারদা মায়ের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন। গণিতচর্চার পাশাপাশি তিনি স্বামী অভেদানন্দের বহু ইংরেজি বক্তৃতাকে বাংলায় অনুবাদ করেন। এমনকি ভগিনী নিবেদিতার বিখ্যাত রচনা ‘শিব ও বুদ্ধ’-এর অনবদ্য বাংলা অনুবাদও করেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে তিনি গুড়াপে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম (Ramakrishna Mission) প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন।

গোপন ডায়েরি ‘বিনা অনুমতিতে পাঠ নিষেধ’ :

১৯২৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে কেশব চন্দ্র একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি বা খাতা মেইনটেইন করতেন। তার ওপরে লেখা থাকত— ‘বিনা অনুমতিতে পাঠ নিষেধ’। এই খাতায় তাঁর অঙ্ক নয়, বরং স্থান পেত ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস এবং দেশাত্মবোধক নানা চিন্তাভাবনা। সারদা মায়ের চরণে উৎসর্গ করে তিনি ‘টু মাদার্স ফিট’ (To Mother's Feet) নামে একটি কবিতাও লিখেছিলেন।

স্বাধীনতা আন্দোলন ও সমাজসেবা :

মহাত্মা গান্ধীর ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনে’ পরোক্ষভাবে শামিল হয়েছিলেন এই শিক্ষক। নিজের উপার্জিত অর্থের একটা বড় অংশ তিনি ব্যয় করতেন সমাজকল্যাণে। নিজের জন্মভূমি গুড়াপের উন্নয়নের জন্য তিনি সেখানে স্কুল, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সাধারণ পাঠাগার তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। নিজের বই থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির টাকা দিয়ে তিনি ১৯৩২ সালে তিনি ‘গুড়াপ রমণিকান্ত ইনস্টিটিউশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।

বই লেখার নেপথ্য কাহিনি ও কালজয়ী অবদান

মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়ানোর সময় কেশব চন্দ্র লক্ষ্য করেন যে, তৎকালীন বাজারে প্রচলিত অঙ্কের বইগুলো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি তৈরি করছে। তিনি এমন এক পদ্ধতির কথা ভাবলেন যা আনন্দের ছলে অবলীলায় শিক্ষার্থীদের মাথায় অঙ্কের জটিল তত্ত্ব ঢুকিয়ে দেবে। সহজ থেকে কঠিন— ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করে তিনি তৈরি করলেন ‘নব পাটীগণিত’ (New Arithmetic)। বইটি ১৯৫২ সালে (মতান্তরে, ‘১৯৩২ সালে’) ‘ইউ. এন. ধর অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৪২ সালে ‘ক্যালকাটা বুক হাউস’ থেকে ‘ম্যাট্রিক ম্যাথমেটিক্স’ প্রকাশিত হয়। ক্যালকাটা বুক হাউসের মাধ্যমে প্রকাশিত এই বই রাতারাতি অবিভক্ত বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। 

চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত তাঁর লেখা বইগুলো যুগের পর যুগ ধরে বাংলার গণিত শিক্ষার মূল ভিত্তিস্তম্ভ হয়ে রয়েছে। চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তিনি মোট ৪২টি গণিত বই লিখেছিলেন। ছাত্রদের কাছে গণিতকে অত্যন্ত সহজবোধ্য ও আনন্দদায়ক করে তোলার জন্য তিনি কিংবদন্তি হয়ে আছেন।

প্রকাশনা সংস্থা : বইয়ের অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তায় ১৯৫৫ সালে তিনি নিজের প্রকাশনা সংস্থা ‘নাগ পাবলিশিং হাউস’ খোলেন।

কে সি নাগের ‘কোর গণিত’👉 পড়ুন এখানে

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ :

১৯৮৭ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ৯৩ বছর বয়সে কলকাতার এক নার্সিংহোমে এই মহান শিক্ষাবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গাণিতিক পদ্ধতি আজও বাঙালির মগজে ‘অঙ্কের ভিত’ গড়ে চলেছে।

তথ্য সূত্র:

📌 ১. উইকিপিডিয়া (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ) - কে. সি. নাগ জীবনী।
📌 ২. শিক্ষক বাতায়ন (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার) - 'কেশবচন্দ্র নাগ: অঙ্কের জাদুকরী শিক্ষক' নিবন্ধ।
📌 ৩. দ্য ওয়াল (The Wall) পত্রিকা আর্কাইভ - 'শরৎচন্দ্রের গণিতশিল্পী কেসি নাগ' বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন।
📌 ৪. মিডিয়া আর্কাইভ ও স্থানীয় ইতিহাস কোষ (হুগলি জেলা ও মিত্র ইনস্টিটিউশন স্মারক পত্রিকা)।
----------xx----------

মন্তব্যসমূহ

🔰 তারিখ অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 মাস অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

🔰 বছর অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 ব্যক্তি অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন : 🔍

আরও দেখান

🔰 বিষয় অনুযায়ী তথ্য খুঁজুন :🔍

আরও দেখান

🔰 তথ্য তালাশ : জনপ্রিয় ব্যক্তি ও বিষয়গুলো দেখুন:

উসেইন বোল্ট, ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড

বিশ্ব অ্যালজেইমার্স দিবস

মহান মে দিবসের ইতিহাস ও ২০২৬-এর তাৎপর্য | তথ্য তালাশ

চিন্তা ও চেতনার পার্থক্য কী?

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মদিন

শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ পাড়ি

প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ভারতের জাতীয় প্রতীকের নকশাকার

উদ্ভাবন-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কী

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ার-এর জন্মদিন

তথ্য তালাশ : অনলাইন সংকলন

আলী হোসেন, লেখক,
তথ্য তালাশ
সুপ্রিয় পাঠক,

তথ্য তালাশ-এর অনলাইন সংকলনে আপনাকে স্বাগত। 

প্রতিদিন, প্রতি নিয়ত বিশ্বজুড়ে ঘটে চলেছে নানান ঘটনা। কিছু বিখ্যাত, কিছু অখ্যাত, আবার কিছু কুখ্যাতও। এই সব হরেক ঘটনার মধ্যে থাকে এমন কিছু ঘটনা, যা মানুষ মনে রাখতে চায়, চায় স্মরণ করতে।

তথ্য তালাশ সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি। যেহেতু এটি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি, তাই যখনই প্রয়োজন পড়বে, আপনার হাতের মোবাইলে হাত রাখলেই আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মত সামনে হাজির হবে তথ্য তালাশ।

আপনি কি পড়তে চান এই সংকলনটি! ক্লিক করুন এখানে।