মাতঙ্গিনী হাজরা জন্মদিন
মাতঙ্গিনী হাজরা জন্মদিন
১৮৭০ সালের ১৯ অক্টোবর। মাতঙ্গিনী হাজরার জন্মদিন। মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী ও গান্ধীজীর আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী কর্মী। তাঁর কর্মজীবন ও দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের ইতিহাস, প্রত্যেক দেশপ্রমিক ভারতীয়ের কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।জন্ম ও বংশপরিচয়
জন্ম: ১৯ অক্টোবর, ১৮৭০ (অন্য মতে ১৮৬৯)। মাতঙ্গিনী হাজরার প্রাথমিক জীবন ছিল প্রতিকূলতায় পূর্ণ। ১৮৭০ সালের ১৯ অক্টোবর তমলুক থানার অন্তর্গত হোগলা গ্রামের দরিদ্র কৃষক ঠাকুরদাস মাইতির ঘরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।জন্মস্থান: তামলুক, মেদিনীপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)।
পিতামাতা: তাঁর পিতার নাম ছিল ঠাকুরদাস মাইতি এবং মাতার নাম ছিল ভগবতী দেবী।
শিক্ষা :
সেই সময়কার সামাজিক প্রথা ও দারিদ্র্যের কারণে মাতঙ্গিনী হাজরার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুবই সীমিত ছিল। বলা ভালো, এই কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের তেমন কোন সুযোগ পাননিকোন কোন সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি শৈশবে অল্প কিছুদিন স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন।
তবে, পরবর্তী জীবনে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছিলেন। সমাজ ও দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
বৈবাহিক জীবন
মাতঙ্গিনী হাজরার বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১২ বছর বয়সে।সমাজের প্রচলিত বাল্যবিবাহ প্রথা অনুযায়ী, শৈশবেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিলেন।তাঁর স্বামীর নাম ছিল ত্রিলোচন হাজরা। যিনি আসলে একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি। আলিনান গ্রামের এই ৬০ বছর বয়সী মানুষের সাথে তাঁর বিবাহ হয়।
কিন্তু এই বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র আট বছর পর তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, কোনো সন্তান ছাড়াই তিনি বিধবা হন।
স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তমলুকে ফিরে আসেন। কঠোর দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন শুরু করেন। পরবর্তীকালে, এই অর্থনৈতিক দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসা এবং সামাজিক কঠোরতাগুলিকে অতিক্রম করার জন্য তিনি নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে আত্মনিয়োগ করেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা ও মৃত্যু :
বৈধব্যের পর প্রায় ৬০ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হন এবং গান্ধীজির অহিংস আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা নীতির প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং তা পালনের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি অচিরেই ‘গান্ধীবুড়ি’ (গান্ধীর বৃদ্ধা) নামে পরিচিতি লাভ করেন।
আরও পড়ুন : স্বাধীনতা সংগ্রামে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা।
২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২: তামলুকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরের দিন (৩০ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুবরণ করেন।· তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন সাধারণ ঘরে জন্ম নেওয়া একজন অসাধারণ নারী। যিনি তাঁর দৃঢ় সংকল্প ও দেশপ্রেমের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
-------xx-------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন